শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুরের পীরগঞ্জে কালবৈশাখীর ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে তিগ্রস্তে ৫ ইউনিয়নের কৃষক ও সাধারণ মানুষের দু’চিন্তা কাটছেনা । ব্যক্তিগত ভাবে দুই-এক জন সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলেও এখন পর্যন্ত সরকারী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অনুদান পায়নি। কিভাবে তারা তিগ্রস্ত ঘরগুলো সংস্কার করবে আর কিভাবেই বা তিগ্রস্ত ফসলের তি পুষিয়ে নিবে এ চিন্তায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার পীরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রচন্ড বেগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে । এতে উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী, কুমেদপুর, বড়দরগাহ, শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের উঠতি বোরো ধান, ভুট্টা, মরিচ, পটল, শসা, কচু সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-তি হয় । সেই সঙ্গে ২ সহস্রাধিক বাড়ী ঘরের টিনের চালা শিলা বৃষ্টিতে ফুটো হওয়ায় ঘর গুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে । ভেঙ্গে পড়েছে অসংখ্য গাছ ও ঘর । গুর্জিপাড়া গ্রামের আতোয়ার, মঞ্জুর, পার্বতীপুরের মজিদ, চাপাবাড়ীর নটকো বাগানের কৃষক মন্টু মিয়া, রফিকুল, বেড়াখাই এর জালাল সহ বেশ কিছু সংখ্যক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে শিলাবৃষ্টির কারণে তাদের জমির উঠতি বোরো ধানের ৮০ শতাংশ জমিতেই ঝড়ে পড়েছে । চাপাবাড়ীর নুরুল আমিন জানান, তার ৫০ শতক জমির পটল ও শসা সমুদয় বিনষ্ট হয়েছে । গুর্জিপাড়া লেবু জানান, তার ৬০ শতক জমির ভুট্টার ৬০ শতাংশ বিনষ্ট হয়েছে । সর্বোপরি উল্লেখিত ইউনিয়নের সব কৃষকের জমির ফসলের একই অবস্থা । ভগবানপুরের লাল মিয়া তার ধান েেতর তি প্রত্য করে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন । এ ছাড়া ছোট মির্জাপুরের ছামছুল, গুর্জিপাড়ার হাফিজার, মঞ্জুর, দিগদাড়ীর রইচ উদ্দিন সহ বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঘরের টিনের চালা শিলাবৃষ্টির কারনে ঝাজরা হয়ে গেছে । একই অবস্থা ২ সহস্রাধিক মানুষের বাড়ীর । তিগ্রস্থ কৃষক ও সাধারন মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, সাম্প্রতিক সময়ের লকডাউন পরিস্থিতি ও রোজার মধ্যে তাদের ফসলের এ তি তাদের দিশেহারা করেছে । এই মুহুর্তে ঘর গুলো সংস্কার করার নেই অনেকের সামর্থ । ঘর গুলোতে পলিথিন দিয়ে বৃষ্টি থেকে পরিত্রানের চেষ্টা করছেন । ফসলের তিতে আগামী দিন গুলো তাদের কি ভাবে কাটবে ? সংসারই বা চলবে কি ভাবে ? এটাই এখন তাদের বড় দুশ্চিন্তা । ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, তার ইউনিয়নেও ফসলের ও বাড়ী ঘরের ব্যাপক তি হয়েছে । এ েেত্র কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তার বিকল্প নেই। এছাড়া ও ঘর গুলো সংস্কারে সহায়তা দিলে কৃষক ও সাধারন মানুষ কিছুটা হতাশামুক্ত হবে। কুমেদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশফাক হোসেন ফুয়াদ বলেন, কৃষক ও ঘর বাড়ীর তিতে আমি উদ্বিগ্ন । আমি তাদের সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছি । তবে তাদের জন্য সাধ্যমত আর্থিক সহায়তা দেয়া সম্ভব হলে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে । বড়দরগাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক বলেন, এ ইউনিয়নের ভগবানপুর, হাজিপুর, ছোট মির্জপপুর,দানিয়ালের পাড়া সহ ৭টি গ্রামের কৃষকদের সমুদয় ফসল বিনষ্ট হয়েছে এবং অবশিষ্ট গ্রাম গুলিতে আংশিক তিগ্রস্থ হয়েছে । এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৭শত ব্যাক্তির বাড়ীর টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে । তাদের জরুরী আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন । পীরগঞ্জ শানেরহাট ইউনিয়নের পার্বতীপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মাজেদ মিয়ার পুত্র আমিনুর, মৃত সিদ্দিক মিয়ার পুত্র খাজা মিয়া, মোজাম্মেল হকের পুত্র মোস্তাক আহমেদ, জালাল মিয়ার পুত্র মোসলেম, হাকিম মিয়ার পুত্র আবু মিয়া, মৃত সিদ্দিক মিয়ার পুত্র সামছুল আলম, জালাল মুন্সীর পুত্র মুনছুন, কলিম উদ্দিনের পুত্র হাকিম, মৃত লুৎফর রহমানের পুত্র রওশন, মৃত মফু মিয়ার পুত্র বাবুল, মৃত সিদ্দিকের পুত্র আজাহার, বাতেন আলীর পুত্র হাসেন আলী, সাহেব মিয়ার পুত্র বাসুক, আঃ রউফের পুত্র কাফি, শমেশের পুত্র বাদশা, মৃত ফজল মিয়ার পুত্র সাইফুল, মৃত জালাল হোসেনের পুত্র মুনছুর হোমেন, বাবলু মিয়ার পুত্র আল-আমিন, সালামের পুত্র সাজ্জাদ, কায়েমের পুত্র সাবু, বারির পুত্র সাহেব, নওয়াব আলীর পুত্র বাতেন, সাহেবের পুত্র তাজেল, জয়নালের পুত্র ফারুক, ছমসের আলীর পুত্র মমিন, মৃত বাদশা মিয়ার পুত্র মজিবর, লাল মিয়ার পুত্র মনোয়ার, মাজেদের পুত্র আনোয়ার, সামাদের পুত্র রাহুল, বদরুলের পুত্র হারুন, দেলদারের পুত্র রিপন, হালিমের পুত্র মওলা, বাদশার পুত্র তুহিন, সাফায়েতের পুত্র মাজেদ, দেলদারের পুত্র সুজন, সাত্তারের পুত্র রওশন সহ এই গ্রামের ৮০ ভাগ কৃষকে মাথায় হাত । গ্রামবাসী জানান, এই এলাকার বামনদহ্ বিল, সেরুডাঙ্গা বিল, কাফ্রিখাল বিল, চক-চকার বিল, দুগলাহাঁসির বিলের সমস্ত পানি আমাদের এই সালমারার বিলে আসে এই কারণে আমরা বেশি তিগ্রস্ত হয় । শানেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু ও অনুরুপ প্রক্রিয়ায় বলেন, তিগ্রস্থ কৃষক ও তিগ্রস্ত ঘরের মালিকদেকদের আর্থিক সহায়তা জরুরী । পর্যাপ্ত সহায়তা পেলে তাদের হতাশা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে । মিঠিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম ফারুক বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক ব্যক্তির বাড়ীর ঘরের টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে । তাদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ঢেউটিন সহ আর্থিক সহায়তা দেয়া দরকার । কৃষকদের ফসলেরও তি হয়েছে অপুরনীয় । পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান সরকার বলেন, আমরা তিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন প্রাথমিক ভাবে এ শিলা বৃষ্টিতে পীরগঞ্জে প্রায় ৫০ হেক্টর জমির বোরো ধান, পাট, কলা ও শাকসব্জি বিনষ্ট হয়েছে বলে মনে করছি। সেই সঙ্গে আমরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ করা হচ্ছে । এছাড়া জমিতে বোরো ধানের ৮০ শতাংশ পেকে গেলে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে । উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী স্যারের নির্দেশক্রমে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহযোগীতা করা হয়েছে এবং এলাকা গুলো পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তিগ্রস্থদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে । জরুরী ভিত্তিতে তিগ্রস্থদের সহায়তা দেয়া হবে । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রাণী রায় তিগ্রস্থ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে তিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ।