রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫, ১০:৫৯ অপরাহ্ন
আলোর সংবাদ ডেক্স: রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য ও সচিবের নামে ভূয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ওই প্রতারক ভূয়া করোনা সনদ প্রদানের অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর সাথেও মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে বর্তমান সংকট থেকে উদ্ধারের বিনিময়ে টাকা দাবি করেছিলো।
বুধবার দুপুরে র্যাবের কোম্পানী কমান্ডার হাফিজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পীরগঞ্জ উপজেলার কাদিরাবাদ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বর্তমান সংসদ সদস্য ও সচিবের নামে ভূয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক চক্রের মূলহোতা মদনখালির আল আমিনের ছেলে মোঃ রেজওয়ানুল হককে (২১) গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মাগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের নামে ভূয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতারণা করে আসছিল রেজওয়ানুল। সে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা নেত্রীদের বিভিন্ন কমিটিতে পদ পাইয়ে দেয়া, মামলা থেকে অব্যহতি দেয়া, ত্রাণ সামগ্রীর অনুমোদন পাইয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন সুবিধার নিশ্চয়তা দিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করতো। টাকা পাঠানোর জন্য ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের একটি হিসাব সরবরাহ করা হতো। এমনকি ভূয়া করোনা সনদ প্রদানের অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর সাথেও মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে বর্তমান সংকট থেকে উদ্ধারের বিনিময়ে টাকা দাবি করেছিলো।
অপরদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব মোঃ মাহবুব হোসেনের নামে ফেইসবুকের ভূয়া এ্যাকাউন্ট খুলে একই কায়দায় প্রতারণা করে আসছিলে রেজওয়ানুল। ফেসবুক এ্যাকাউন্টের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রায় ৪’শ থেকে ৫’শ শিক্ষক ও শিক্ষা সচিবের বন্ধু-বান্ধবদের সাথে যোগাযোগ করে তার পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির অসুস্থতা ও অপারেশনে বহু টাকা খরচ হবে ইত্যাদি বলে অনুদান চেয়ে প্রতারণা করে আসছিল।
এসব শিক্ষকের মধ্যে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য যেমন রয়েছেন তেমনি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সদস্যরাও রয়েছেন। অনুদান পাঠানোর জন্য সে একটি ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর সরবরাহ করতো। তদন্তে দেখা যায়, সরল বিশ্বাসে প্রতারিত শিক্ষকরা তাকে সত্যিকারের শিক্ষা সচিব ভেবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় লক্ষাধিক টাকা প্রেরণ করেছেন। এছাড়াও সার্টিফিকেট পরিবর্তন করে দেয়া, লোভনীয় জায়গায় পোস্টিং করে দেয়া, পদোন্নতি দেয়া, পরীক্ষার ফল পরিবর্তন করে দেয়া, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা ইত্যাদির প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।