শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
আব্দুল করিম সরকার : ছোটবেলা থেকেই রংপুরের ভাওয়াইয়া গান গেয়ে দর্শক মাতিয়ে রাখতেন । এখনও গান করেন । তবে নিয়মিত শিল্পী হিসেবে নয়। মাঝে মধ্যে কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে । ভাওয়াইয়া পাগল এ শিল্পী কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার মোল্লাবাড়ী গ্রামের আকতার হোসেনের পুত্র শফিউর রহমান সরকার। তিনি এখন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য । বর্তমানে পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এস আই হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শফিউর রহমান সরকারের সাথে কথা হয় ভেন্ডাবাড়ীতে তার কর্মস্থলে । কাজের ফাকে-ফাকে তিনি বলেন, আমাদের পরিবারটি সংগীত পরিবার । পরিবারে গানবাজনার প্রচলন ছিল। তাই ছোট বেলা থেকে পরিবারে গানবাজনা থাকায় ছোটকাল থেকে ভাওয়াইয়া গান গাইতেন । নিজ এলাকার বিভিণœ অনুষ্ঠানে ওই গান গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখতেন। তার ইচ্ছে ছিলো ভাওয়াইয়া গানের বড় শিল্পী হবার । মানুষের সব ইচ্ছে হয়তোবা পুরণ হয়না । শফিউরেরও হয়নি । পড়া-লেখা শেষে চাকুরী হয় বাংলাদেশ পুলিশে। পুলিশে চাকুরী করলেও কিন্তু গানের অভ্যেস ছাড়েননি। সুযোগ পেলেই গান গেয়ে থাকেন। শফিউর আর বলেন, রংপুরের ভাওয়াইয়া গানের পাশাপশি লালণগীতি, ফোক বিচ্ছেদেরও গান গিয়ে থাকেন। তবে পুলিশে চাকুরী করলেও গানের রেওয়াজ ছেড়ে দেননি । তার ভাষায়, ছোটকাল থেকেই গানচর্চা করতাম। বড় হয়ে গায়ক হবো এমনটাই ছিল চিরস্বপ্ন। এরপর পুলিশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান গাওয়া ছাড়া সেভাবে আর গানের চর্চা করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি । তবে গত কয়েক মাস থেকে সময় বের করে গানের চর্চাটা চালিয়ে যাচ্ছি। গানের চর্চা চাকরিতে সমস্যা সৃষ্টি করে কি? জানতে চাইলে শফিউর রহমান বলেন – আমার জীবনে চাকরিটাই মেইন। চাকরির ফাঁকে নিজের জন্য যে সময়টা থাকে-সেই সময়টাই মূলত গানে দেই আমি। চাকরি আমার পেশা, গানটা আমার শুধুই নেশা। আলোচনা শেষে রংপুরের সেই ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া গান গেয়ে শোনান তিনি-‘ও মুই নাইওর আর না যাইম গাড়িয়াল তোমার গাড়িত চড়ি’ ।